শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ২:০০ pm

তালেবান নৃশংসতার ব্যাপারে জুনেই সতর্ক করেছিলেন আফগান নারী মন্ত্রীরা

তালেবান নৃশংসতার ব্যাপারে জুনেই সতর্ক করেছিলেন আফগান নারী মন্ত্রীরা

আফগানিস্তানের প্রথম মহিলা ডেপুটি স্পীকার ফাওজিয়া কুফি

তালেবানদের কাবুল দখলের দুই মাস আগেই তাদের নৃশংসতা ও নারী অধিকার হরণের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে কানাডার রাজনীতিকদের সাহায্য চেয়েছিলেন আফগান নারী মন্ত্রীরা। তালেবানরা কাবুলের দিকে এগোতে থাকায় জুনেই তারা কানাডার কাছে তাদের জন্য কিছু একটা করার আর্জি জানিয়েছিলেন। কানাডিয়ান ও আফগান রাজনীতিকদের মধ্যে অনুষ্ঠিত ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন কানাডিয়ান সিনেটর সালমা আতাউল্লাহজান।

 

কানাডিয়ান মন্ত্রী, এমপি ও সিনেটরদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত কানাডা-আফগানিস্তান পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের জুম মিটিংয়ে এই অনুরোধ জানানো হয়। তালেবানরা আফগানিস্তানের অধিকাংশ অঞ্চলের দখল নেওয়ায় সুনির্দিষ্ট খুন ও নারীদের ওপর যে নিপীড়ন নেমে এসেছে সে বিষয়ে জুলাইয়ে গ্রুপকে ব্রিফ করেন আফগানিস্তানে নিযুক্ত কানাডিয়ান রাষ্ট্রদূত হাসান সরোশ।

 

আতাউল্লাহজান বলেন, স্থানীয় ধর্মীয় নেতাদের তালেবানরা ১৫ বছরের বেশি বয়সী বালিকা ও ৪৫ বছরের কম বয়সী বিধবাদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছিল সে তথ্যও সরোশ জানান। তালেবান নেতারা তাদের বিয়ে করার উদ্দেশ্যেই তালিকাটি তৈরির নির্দেশ দিয়েছিল।

 

সেই পরিস্থিতিতে আফগান নারী মন্ত্রীরা যে তাদের জন্য কিছু করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন সেই বর্ণনা দেন উভয় বৈঠকে অংশ নেওয়া আতাউল্লাহজান। তিনি বলেন, কানাডিয়ান কেবিনেট মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত জুনের বৈঠকে ঝুঁকিতে থাকা আফগানদের উদ্ধারে কানাডার দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছিলাম। পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরু হলে একটি বিবৃতি দেওয়ার পাশাপাশি কেন এ ব্যাপারে জরুরিভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না সে ব্যাপারে লিবারেল সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগের পরিকল্পনাও ছিল।

 

তিনি বলেন, জুন ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সেখানকার নারী মন্ত্রীরা খুবই উদ্বিগ্ন ছিলেন। তারা যে সব হারানোর উদ্বেগে ছিলেন সেটা আমরা শুনছিলাম। তাদের জন্য কিছু করার অনুরোধ জানাচ্ছিলেন তারা। আমি সত্যিই খুব উৎকণ্ঠিত ছিলাম। জুলাইয়ে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে আমরা তার কাছ থেকে ভয়ার্ত তথ্য পেয়েছিলাম।

 

জুনের মধ্যেই তালেবানরা আফগানিস্তানের এক-তৃতীয়াংশের দখল নিয়ে নেয় এবং দ্রুত গতিতে কাবুলের দিকে এগোতে থাকে। ১৫ আগস্ট তারা রাজধানী কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়। দুই দশক পর ৩০ আগস্ট আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

Comments