শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ২:০৮ pm

অর্থনীতির ০.১% সংকোচন

অর্থনীতির ০.১% সংকোচন

ফাইল ছবি

ভোক্তাদের ওপর ভর করে আগস্টে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে কানাডার অর্থনীতি। তবে তার আগের মাসে অর্থাং জুলাইয়ে দেশটির অর্থনীতি দশমিক ১ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে বলে স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা শুক্রবার জানিয়েছে।

 

যদিও সংস্থাটি তাদের আগের প্রাক্কলনে অর্থনীতি দশমিক ৪ শতাংশ সংকুচিত হবে বলে ধারণা করেছিল। কিন্তু উষ্ণ আবহাওয়া, জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিধিবিধান শিথিলকরণ ও সংক্রমণ কমে যাওয়ার ফলে কানাডিয়ানদের প্যাশিও এবং ভ্রমণ জুলাইয়ে অর্থনীতিকে অতোটা সংকোচন থেকে রক্ষা করেছে।

 

সশরীরে সেবা গ্রহণ ও ভ্রমণ বিধিনিষেধের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আবাস ও খাদ্য সরবরাহ সেবা খাত। এ খাতও জুলাইয়ে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির দেখা পেয়েছে। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় মাস দুই অংকের ঘরে প্রবৃদ্ধি দেখল খাতটি।

 

ভ্যাকসিন নেওয়া ভ্রমণকারীদের জন্য কোয়ারেন্টিনের বিধান ৫ জুলাই থেকে বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ভ্রমণ মৌসুম হওয়ায় জুলাইয়ে আকাশপথে যাত্রী পরিবহন ৬৭ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে।

 

টিডির জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ থানাবালাসিঙ্গাম বলেন, সদ্য সমাপ্ত মাসের প্রাথমিক কিছু সূচক দেখে বলা যায়, সেবা খাতে ব্যয় বৃদ্ধির ধারা আগস্ট এবং সেপ্টেম্বরেও অব্যাহত থাকবে।

 

তবে প্রতিটি খাতই এখনও মহামারি-পূর্ব অবস্থায় যেতে পারেনি। জুলাইয়ে আবাস ও খাদ্য সরবরাহ সেবা খাত ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির তুলনায় ২১ দশমিক ৩ শতাংশ নিচে ছিল। আর আকাশ পথে যাত্রী পরিবহন ছিল মহামারি-পূর্ব সময়ের তুলনায় ৮৩ শতাংশ নিচে। এখন যেহেতু খাতগুলো মহামারি-পূর্ব সময়ের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে, তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রবৃদ্ধিতে আমরা ধীর গতি দেখতে পাবো। এরপর হেমন্ত ও শীত এসে গেলে আমরা কিছুটা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যেতে পারি। সংক্রমণের চতুর্থ ঢেউ ও শীত এসব খাতে ভোক্তা ব্যয় কমিয়ে দিতে পারে।

 

স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা বলছে, সামগ্রিকভাবে জুলাইয়ে অর্থনৈতিক কর্মকা- ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে রেকর্ডকৃত মহামারি-পূর্ব সময়ের চেয়ে ২ শতাংশ কম ছিল। সংস্থাটির আগস্টের দশমিক ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হিসাবে নিলে মাসটিতে এ ব্যবধান দাঁড়ায় ১ শতাংশের মতো।

 

আরবিসির অর্থনীতিবিদ ক্লেয়ার ফন রোট বলেন, জিডিপির আরও বৃদ্ধি কঠিন হবে বিশেষ করে আগামী বছর। কারণ, প্রবৃদ্ধি নিয়ে যে উদ্বেগ তার জায়গা নিয়েছে মূল্যস্ফীতি। এর ফলে ব্যাংক অব কানাডা সুদের হার হার বাড়ানোর চিন্তা-ভাবনা করছে।

 

স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার উপাত্ত অনুযায়ী, অধিকাংশ খাত প্রবৃদ্ধির দেখা পেলেও কৃষি, পরিষেবা ও উৎপাদন খাতের পতন হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলের তাপদাহ ও খরা ক্যানাবিস বাদে সব শস্যের উৎপাদন ২০০৭ সালের পর সর্বনি¤œ স্তরে নামিয়ে এনেছে। অন্যদিকে মধ্য কানাডায় ঠান্ডা আবহাওয়া পরিষেবা ব্যয় ৪ দশমিক ৯ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। এছাড়া সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘœ ঘটায় জুলাইয়ে উৎপাদন খাতের ১ দশমিক ১ শতাংশ পতন হয়েছে। নির্মাণ খাতের পতন হয়েছে দশমিক ৯ শতাংশ। এ নিয়ে টানা তিন মাস পতন দেখল খাতটি।

 

 

 

Comments