শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ২:২৯ pm

এসএনসি-লাভালিনের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ

এসএনসি-লাভালিনের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ

ফাইল ছবি

মন্ট্রিয়ল ব্রিজ মেরামতের কাজ পেতে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে এসএনসি-লাভালিনের সাবেক দুই নির্বাহীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার কথা জানিয়েছে রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি)। বৃহস্পতিবার এ ঘোষণা দিয়েছে আরসিএমপি।

 

এসএনসি-লাভালিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট নরম্যান্ড মোরিন ও এসএনসি-লাভালিন ইন্টারন্যাশনাল ইনকর্পোরেশনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কামাল ফ্রান্সিসের বিরুদ্ধে জালিয়ালি, জালিয়াতি সংঘটনের চক্রান্ত, সরকারের বিরুদ্ধে জালিয়াতি এবং সরকারের বিরুদ্ধে জালিয়াতির চক্রান্তের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সাবেক এই দুই নির্বাহীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং ২৭ সেপ্টেম্বর তাদের আদালতে তোলা হয়। এসএনসি-লাভালিন ও এসএনসি-লাভালিন ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিদেরও এদিন আদালতে হাজির করা হয়।

 

এসএনসি-লাভালিন ও এসএনসি-লাভালিন ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে রেমেডিয়াল এগ্রিমেন্ট নিয়ে দর কষাকষির জন্য ডিরেক্টর অব ক্রিমিনাল অ্যান্ড পেনাল প্রসিকিউশন্সের (ডিপিসিপি) পক্ষ থেকে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার আমন্ত্রণ পাঠানো হয়। তবে কোনো নির্বাহীই এ ধরনের প্রস্তাবের যোগ্য নন। বিলম্বিত মামলা চুক্তি নামে পরিচিত এ ধরনের চুক্তি এসএনসি-লাভালিনকে কুইবেক সরকার, কানাডা ও দেশের বাইরে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেবে।

 

ডিপিসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের কর্মী, অবসরপ্রাপ্ত কর্মী, গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব হ্রাস করে।

 

এসএনসি-লাভালিনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়ান এডওয়ার্ডস বলেছেন, আমি জোর দিয়ে বলতে চাই যে, ঘটনাটি ঘটেছিল এখন থেকে প্রায় ২০ বছর আগে। যারা এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন তারা কোম্পানি ছেড়ে গেছেন এবং কোম্পানির সঙ্গে এখন তাদের আর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। গত এক দশকে কোম্পানি অনেক উন্নতি করেছে এবং বর্তমানে সর্বোচ্চ তৈনিক মানদ- বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এটাকে আমরা অতীতকে পেছনে ফেলে ভবিষ্যতের দিকে কোম্পানির মনোযোগ বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছি।

 

অভিযোগগুলোকে ২০১৩ সালে শুরু হওয়া প্রজেক্ট অ্যাগ্রাফে নামে পরিচিত জটিল তদন্তের ফলাফল হিসেবে দেখছে আরসিএমপি। সংস্থাটি বলছে, আরসিএমপির সেনসিটিভ অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন তদন্তটি সম্পন্ন করেছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর আরসিএমপি অভিযোগ গঠন ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার জন্য বিষয়টি কুইবেকের ডিরেক্টর অব ক্রিমিনাল অ্যান্ড পেনাল প্রসিকিউশনের পাঠিয়ে দেয়।

 

১৯৯৭ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে সংঘটিত এ ঘটনায় ফেডারেল ব্রিজ কর্পোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিশেল ফোর্নিয়ের ১২ কোটি ৮০ লাখ ডলারের জ্যাক-কার্টিয়ের ব্রিজ মেরামত প্রকল্পের জন্য এসএনসি-লাভালিনের কাছ থেকে ২২ লাখ ৩০ হাজার ডলার ঘুষ নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। সুইস ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এ অর্থ নিয়েছিলেন তিনি। এ ঘটনায় ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ভিক্টোরিয়ার বাসিন্দা ফোর্নিয়েরকে ২০১৭ সালে সাড়ে পাঁচ বছরের কারাদ- দেওয়া হয়। তখন থেকেই প্যারোলে রয়েছেন তিনি।

 

 

 

 

Comments