শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ৩:৩৬ pm

ভোটারদের প্রধান ইস্যু সাশ্রয়ী আবাসন


ভোটারদের প্রধান ইস্যু সাশ্রয়ী আবাসন

সাশ্রয়ী আবাসনকেই নির্বাচনের প্রধান ইস্যু বলে মনে করছেন জিটিএ’র অধিকাংশ ভোটার

মহামারির চতুর্থ ঢেউ স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ও অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। তা সত্ত্বেও সাশ্রয়ী আবাসনকেই নির্বাচনের প্রধান ইস্যু বলে মনে করছেন গ্রেটার টরন্টো এরিয়ার (জিটিএ) অধিকাংশ ভোটার। ন্যানোস রিসার্চের নতুন এক সমীক্ষা সেটাই বলছে।

জিটিএর বাসিন্দাদের তাদের অঞ্চলে প্রধান কি সমস্যার মোকাবেলা করতে হচ্ছে এবং আগামী মাসের নির্বাচনে কোন কোন ফ্যাক্টরগুলো প্রভাবক হয়ে উঠতে পারে সেইসব প্রশ্ন রেখে ৫১৮ জন প্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিকের ওপর সমীক্ষাটি চালানো হয়। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৪০ দশমিক ৮ শতাংশ নাগরিকই সাশ্রয়ী আবাসনকে জিটিএর প্রধান ইস্যু বলে উল্লেখ করেন। ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ ট্রানজিট এবং কোভিড-১৯কে প্রধান ইস্যু মনে করেন ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ নাগরিক।

টরন্টো রিজিয়নাল রিয়েল এস্টেট বোর্ডের সাম্প্রতিক উপাত্ত বলছে, গত এক বছরে বাড়ির মূল্য বেড়েছে ১২ দশমিক ৬ শতাংশ। সেই সঙ্গে গ্রেটার টরন্টো অঞ্চলে সব ধরনের বাড়ির দাম গড়ে ১০ লাখ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

অন্য যেসব ইস্যু ভোটাররা সামনে এনেছেন তার মধ্যে আছে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৫ দশমিক ৫ শতাংশ নাগরিক একে প্রধান ইস্যু মনে করেন। এছাড়া কোভিড-১৯ থেকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে ৫ দশমিক ২ শতাংশ, জলবায়ু পরিবর্তনকে ৫ শতাংশ এবং সহিংস অপরাধকে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা প্রধান ইস্যু বলে মত দিয়েছেন।

তবে টরন্টো নগরীর আরও বেশি নাগরিক সাশ্রয়ী আবাসনকে প্রধান ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছেন। জিটিএর অন্যান্য অঞ্চলের ৩৫ শতাংশ বাসিন্দা সাশ্রয়ী আবাসনকে প্রধান ইস্যু মনে করলেও টরন্টো নগরীতে এ হার ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ।

গ্রেটার টরন্টো এরিয়াতে আবাসন নিয়ে উদ্বেগটা তরুণদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত বেশি দৃশ্যমান। ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী ৪৫ শতাংশই আবাসনকে প্রধান ইস্যু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ৩৫ থেকে ৫৪ বছর বয়সীদের মধ্যে যেখানে এ হার ৩৫ এবং ৫৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ।

রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী প্রচারণাতেও আবাসনের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। গত সপ্তাহে হ্যামিল্টনে এক কর্মসূচিতে আবাসন বাবদ তার দলের ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। আগামী তিন বছরে ১০ লাখ বাড়ি নির্মাণের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন কনজার্ভেটিভ পার্টির নেতা এরিন ও’টুল।

জিটিএতে এগিয়ে লিবারেল

ভোটের বাকি আছে তিন সপ্তাহের কিছু বেশি। ঠিক এই সময়ে ন্যানোস রিসার্চের সমীক্ষায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। ন্যানোসের রোববারের উপাত্ত বলছে, লিবারেল পার্টি ১১১টি আসনে জয়লাভ করতে পারে। অন্যদিকে কনজার্ভেটিভ পার্টি পেতে পারে ১০৭টি আসন। তবে জিটিএতে লিবারেলরা তাদের শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হবে বলে মনে করছে ন্যানোস।

৫০২ জনের ওপর পরিচালিত ন্যানোস রিসার্চের আরেকটি সমীক্ষার ফলাফল বলছে, মনস্থির করে ফেলেছেন এমন ভোটারদের ৪৪ শতাংশ টরন্টোতে লিবারেল পার্টিকে ভোট দেবেন। এছাড়া কনজার্ভেটিভ পার্টির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এই শ্রেণির ভোটারদের ৩২ ও এনডিপির প্রতি ১৯ শতাংশ। এর বাইরে গ্রিন পার্টির প্রতি ২ ও পিপল’স পার্টির প্রতি ৩ শতাংশ ভোটার তাদের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। টরন্টোর ১৩ শতাংশ ভোটার কাকে ভোট দেবেন এখন পর্যন্ত সে সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি।

লিবারেলদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে ট্র্যাক রেকর্ড

ভোটের ক্ষেত্রে কি ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, ন্যানোস রিসার্চের পক্ষ থেকে সে প্রশ্নও রাখা হয়েছিল ভোটারদের কাছে। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি জোর দেন রাজনৈতিক দলগুলোর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপর। এক্ষেত্রে গড় স্কোর ৮ দশমিক। লিবারেল পার্টিকে ভোটাররা ভোট দেবেন কিনা সেক্ষেত্রে নির্ণায়ক ইস্যু হয়ে উঠতে পারে দলটির ট্র্যাক রেকর্ডও। এক্ষেত্রে গড় স্কোর ৭ দশমিক ৬। এর পরের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নেতাদের পারফরম্যান্স, যার গড় স্কোর ৬ দশমিক ৪। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর কানাডার জাতীয় নির্বাচনে ভোট গ্রহণের দিন ধার্য্য রয়েছে।

 

 

 

Comments