শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ২:১৮ pm

সরবরাহ সংকটে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো

সরবরাহ সংকটে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো

ভলতেরার টীম

কোভিড-১৯ মহামারি শুরু হওয়ার পর প্রযুক্তি কোম্পানি ভলতেরাকে প্রথম মোকাবেলা করতে হয়েছিল স্বাস্থ্য সমস্যা। অন্টারিওভিত্তিক প্রযুক্তি কোম্পানি দ্য কিচেনার অ্যালমিনিয়ামের ঘাটতি এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি। মহামারির প্রথম দিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ার সময় থেকে এ সংকটের শুরু। পণ্য পরিবহনের জন্য আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ওপর নির্ভরশীল ভলতেরা এরপর থেকেই ধীর গতির সমুদ্রপথ বেছে নেয়। 

শিপিং সেবার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় খরচও বাড়তে থাকে এবং কোভিড সরঞ্জামের জন্য ভলতেরার প্লাস্টিক উৎপাদন কারখানা মার্কিন সরকারের সঙ্গে চুক্তি করার পর যন্ত্রাংশ পেতে ভলতেরার দুঃসময় শুরু হয়। সেমিকন্ডাক্টরের ঘাটতিও প্রকট হতে থাকে। 

ভলতেরার পরিচালন ব্যবস্থাপক শন ব্যারন বলছিলেন, ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে ভলতেরার বিক্রি ২০ শতাংশ পড়ে গেছে। ভলতেরা এই ধাক্কা সামলে উঠলেও অন্য কোম্পানিগুলোর এজন্য দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হবে বলেই আমার ধারণা। 

সেমিকন্ডাক্টর অর্থাৎ চিপসের সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে মূলত বাড়িতে সময় কাটানোর জন্য ভোক্তাদের গ্যাজেট ক্রয় বৃদ্ধি, কারখানা বন্ধ রাখা, জাপানি একটি কারখানায় অগ্নিকা- এবং টেক্সাসের একটি কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার কারণে।

চিপসের এই ঘাটতির কারণে তাদের বিক্রি ৪০০ কোটি ডলার কমে যেতে পারে বলে মনে করছে অ্যাপল। গাড়ির জন্য প্রয়োজনীয় চিপসের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় জেনারেল মোটর তাদের অন্টারিওর ইঙ্গারসল প্ল্যান্টের দেড় হাজার কর্মী সাময়িক ছাঁটাই করেছে। আর কানাডিয়ান খেলনা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান স্পিন মাস্টার করপোরেশন পণ্যের দাম বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কথা ভাবছে। 

চড়াই-উৎরাইয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে শিপিংও। ড্রিউরি ওয়ার্ল্ড কনটেইনার ইনডেক্সের তথ্য বলছে, রটারডাম থেকে নিউ ইয়র্ক পৌঁছতে ভাড়া পৌঁছেছে ১ হাজার ১৪২ ডলারে। গত বছর থেকে এ পর্যন্ত ভাড়া বেড়েছে ১০৭ শতাংশ। সাংহাই-রটারডাম রুট আরও বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। গত বছরের তুলনায় ৬৩৭ শতাংশ বেড়ে এই রুটে ভাড়া দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৭৮৭ ডলার। 

ওয়াটারলুভিত্তিক চাবিহীন তালা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সেরা৪ এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভিড কুড বলেন, কনটেইনার মূল্য আমাদের সামগ্রিক পরিবহন ব্যয়ের একটা অংশমাত্র। এর বাইরে পোর্ট ফি, লোডিং ফি, কাস্টমস ও ব্রোকারেজ ক্লিয়ারেন্সহ অন্যান্য ব্যয়ও বহন করতে হয় আমাদেরই। 

এর ওপর নতুন মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশে^র অন্যতম ব্যস্ত বন্দর পূর্ব চীনের নিঙ্গবো-ঝুশান বন্দর আংশিক বন্ধ হওয়ার খবর। কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ রুখতে এই উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি। এর ফলে আগামী বছর পর্যন্ত বন্দর থেকে পণ্য পরিবহন বিলম্বিত হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। 

 

 

 

Comments