শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ৩:৫০ pm

রেস্তোরাঁ শিল্পে শ্রমিক সংকটের কারণ স্বল্প মজুরি

রেস্তোরাঁ শিল্পে শ্রমিক সংকটের কারণ স্বল্প মজুরি

কানাডার রেস্তোরাঁ শিল্পে মহামারির প্রভাব পড়েছে ভয়াবহ

কানাডাজুড়ে রেস্তোরাঁ মালিকরা যখন শূন্যপদ পূরণের মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন ঠিক সেই সময় একটা আলাপ জোরেশোরে উঠছে। তা হলো বাড়িতে থাকার দরুণ সরকার যদি শ্রমিকদের অর্থ না দিতো তাহলে রেস্তোরাঁ শিল্পে আজকের এই শ্রমিক সংকট থাকতো না। যদিও শ্রমিকরা বলছেন অন্য কথা। কম মজুরি এবং ভয়াবহ কর্মপরিবেশকেই শ্রমিক নিয়োগে ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হিসেবে দেখছেন তারা। 

রেস্তোরাঁ শিল্প সম্পর্কে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে সান্তেলে কমোর। তিনি বলেন, অত্যধিক গরম ও চাপের মধ্যে কাজ করতে হয় রেস্তোরাঁয়। কর্মঘণ্ট দীর্ঘ হলেও মজুরি খুব কম। ন্যুনতম মজুরির বেশি অর্থ উপার্জনের জন্য আক্ষরিক অর্থেই ঘাম ঝরাতে হয় এখানে।

দ্য কানাডিয়ান প্রেস জানায়, কানাডার রেস্তোরাঁ শিল্পে মহামারির প্রভাব পড়েছে ভয়াবহ। বিশে^র অন্যতম দীর্ঘতম শাটডাউনের মধ্যে থাকতে হয়েছে রেস্তোরাঁ শিল্পকে। বাধ্য হয়ে ১০ হাজারের বেশি রেস্তোরাঁ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। শ্রমিকদের জন্যও এটা বিপর্যয়কর। এর ফলে এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লাখো কর্মীকে চাকরি খোয়াতে হয়েছে। এর মধ্যে অনেকে আর ফেরত আসেনি।

কিছু কিছু রেস্তোরাঁ তাদের শিফট চালাতে আরও কর্মী নিয়োগের চেষ্টা করলেও সরকারের আয় সহায়তা কর্মসূচি এক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেপ ব্রেটনে চারটি রেস্তোরাঁর মালিক ড্যানি এলিস বলেন, অপ্রশিক্ষিত ও স্বল্প মজুরির অনেক শ্রমিককে আমরা হারিয়েছি। 

উল্লেখ্য, এ অঞ্চলটিতে বেকারত্বের হার অনেক বেশি। সমগ্র নোভা স্কশিয়ায় বেকারত্বের হার যেখানে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ তখন এই অঞ্চলে তা ১২ দশমিক ৬ শতাংশ। তারপরও বাসন মাজার কাউকে পাচ্ছেন না বলে জানান এলিস। তিনি বলেন, বাড়িতে বসেই কেউ যদি অর্থ পায় তাহলে কেন সে কাজে ফিরবে? মজুরি বাড়িয়ে পর্যাপ্ত সংখ্যক শ্রমিক এখনও পাইনি। বিদ্যমান কর্মীদের সাপ্তাহিক ছুটি দিতে একটি রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়ার কথা ভাবছি।

রেস্তোরাঁয় শ্রমিক সংকটের একাধিক কারণ দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, অর্থনৈতিক কর্মকা- পুনরায় চালু হওয়ার পর গণ হারে নিয়োগের কারণে নিয়োগদাতাদের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। রেস্তোরাঁ শ্রমিকরা কর্মক্ষেত্র পরিবর্তন করায়, কোভিড-১৯ নিয়ে উদ্বেগ, স্বল্প সংখ্যক বিদেশি শ্যমিক এবং চাইল্ড কেয়ার ও সামার ক্যাম্পের মতো ইস্যুগুলো পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে। 

Comments