শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৭:১৫ pm

মহামারির আড়ালে নারী হত্যা বেড়েছে

মহামারির আড়ালে নারী হত্যা বেড়েছে

জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৯২ জন নারী ও মেয়ে খুন হয়েছেন

কোভিড-১৯ মহামারির কারণে এক বছরের বেশি সময় ধরে কোয়ারেন্টিন, লকডাউন ও আলাদা থাকার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতায় ফিরছে কানাডা। তবে দেশজুড়ে নারী হত্যা ও গৃহস্থ সহিংসতার মতো আরেক মহামারি নীরবে তা-ব চালিয়ে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বেশ কয়েকটি প্রতিবেদনেও এর প্রমাণ রয়েছে। কানাডিয়ান ফেমিসাইড অবজার্ভেটরি ফর জাস্টিস অ্যাকাউন্টেবিলিটির (সিএফওজেএ) মধ্যবর্তী প্রতিবেদনের প্রাথমিক তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৯২ জন নারী ও মেয়ে খুন হয়েছেন। এদের বেশিরভাগই নিহত হয়েছেন পুরুষের হাতে।
ফেমিসাইড হচ্ছে লিঙ্গ পরিচয়ের কারণে নারী ও মেয়েদের খুন হওয়া। ২০২১ সালের প্রথমার্ধে যে ৯২টি ফেমিসাইডের ঘটনা ঘটেছে তার মধ্যে ৭৯টিই ঘটিয়েছেন পুরুষরা। এ বছরের প্রতিবেদনে খুন হওয়া নারীদের মধ্যে আদিবাসীদের প্রতিনিধিত্ব বেশি রয়েছে। কানাডার মোট জনসংখ্যায় আদিবাসীদের হিস্যা মাত্র ৫ শতাংশ হলেও মোট খুন হওয়া নারীদের মধ্যে তারা রয়েছে ১২ শতাংশ।
রায়ারসন ইউনিভার্সিটির অফিস অব সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স সাপোর্ট অ্যান্ড এডুকেশনের ব্যবস্থাপক ফারাহ খান বলেন, নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতাবিরোধী সংস্থা হিসেবে আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার একটি ছায়া মহামারি চলছে।
মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে নারী হত্যাকা-ের সংখ্যা অব্যাহতভাবে বেড়েছে। সিএফওজেএ বলছে, গত বছর ফেমিসাইডের শিকার হয়েছিল ১৬০ জন। ২০১৯ সালের তুলনায় তা অনেক বেশি। ২০১৯ সালে এ ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছিলেন ১১৮ জন।
ফারাহ খান বলেন, স্বাস্থ্য সংকটের কারণে দেশজুড়ে সৃষ্ট লকডাউন নারীদের অস্বাস্থ্যকর সম্পর্কের দিকে নিয়ে গেছে, যার ফল এই হত্যাকা-। মহামারির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নারীরাই। এর ফলে সমগ্র কানাডায় ৩৫ শতাংশ নারী কাজ হারিয়েছেন এবং কানাডার সংখ্যাগরিষ্ঠ নি¤œতম মজুরির কর্মীতে পরিণত হয়েছেন।
গত বছর যে ১৬০ জন নারী হত্যাকা-ের শিকার হন তাদের মধ্যে ১২৮ জন খুন হন পুরুষের হাতে। তাদের সিংহভাগই আবার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের, যার হার ১৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ। খুন হওয়া নারীদের ৫ দশমিক ২১ শতাংশ নুনাভাটের।
এদিকে চলতি বছরের প্রথমার্ধে কেবল অন্টারিওতেই ফেমিসাইড বেড়েছে ৮৪ শতাংশের বেশি। অন্টারিও অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারভাল অ্যান্ড ট্রানজিশন হাউসেজের (ওএআইটিএইচ) পরিসংখ্যানে এমনটাই বলা হয়েছে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত প্রদেশজুড়ে ১৯টি ফেমিসাইডের ঘটনা নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি। পরের বছর নিহত হয়েছেন ৩৫ জন। নিহতদের সিংহভাগ অর্থাৎ ৩০ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। এসব হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িতদের সিংহভাগ ৫০ শতাংশ পুরুষের বয়সও ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।

Comments