রবিবার, ১ আগস্ট ২০২১, ৯:১৭ am

২ লাখ ৩০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান !

 

২ লাখ ৩০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান !

একটি শিল্পকারখানা পরিদর্শনে অন্টারিও প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড

তৃতীয় ঢেউয়ের কারণে আরোপিত লকডাউন শিথিল করার ফলে কানাডার অর্থনীতিতে কর্মসংস্থানের যে ক্ষতি তা প্রায় পুনরুদ্ধার হয়েছে। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার উপাত্ত বলছে, জুনে কানাডার অর্থনীতিতে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭০০ কর্মসংস্থান যুক্ত হয়েছে। সংক্রমণ থামাতে বিধিনিষেধ কঠোর করার কারণে গত এপ্রিল ও মে মাসে দেশটিতে কর্মসংস্থানে বড় ধরনের বিপর্যয় তৈরি হয়েছিল।
২০২১ সালের জুনে কানাডায় বেকারত্বের হার নেমে এসেছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশে। গত মে মাসে যেখানে এ হার ছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ। এছাড়া গত মার্চে কানাডায় বেকারত্বের হার ছিল ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। সে হিসাবে মার্চের পর জুন ছিল বেকারত্বের হার সর্বনিম্ন নেমে আসার মাস।
কানাডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের প্রধান অর্থনীতিবিদ ট্রেভিন স্ট্যাটন বলেন, অর্থনৈতিক কর্মকা- খুলে দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপে রয়েছি আমরা। আমাদের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের জন্য এটা একটা টার্নিং পয়েন্ট। কর্মসংস্থান হারানোর ঘটনা আর হয়তো দেখতে হবে না আমাদের। শ্রমবাজারের প্রারম্ভিক এ ঘুরে দাঁড়ানোটা আশাব্যঞ্জক হলেও দীর্ঘমেয়াদে বেশ কিছু ইস্যু আছে যেগুলো আমাদের সামনে আনতে হবে।
স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার তথ্য অনুযায়ী, জুনে সবচেয়ে বেশি হয়েছে খ-কালীন নিয়োগ। সংখ্যাটি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬৩ হাজার ৯০০ জনে, যা মহামারি-পূর্ব সময়ের মতোই। আর এই নিয়োগে প্রধান ভূমিকা রেখেছে মহামারির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত খুচরা ব্যবসা ও খাদ্য পরিষেবা খাত।
অ্যাকোমোডেশন খাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে ১ লাখ ১ হাজার এবং গত বছরের জুলাইয়ের পর সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান বেড়েছে খাদ্য পরিষেবা খাতে। প্রদেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান বেড়েছে কুইবেক, আলবার্টা ও ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায়। ইনডোর ডাইনিংয়ে বিধিনিষেধের কারণে অন্টারিওতে এ খাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে তুলনামূলক ধীর গতিতে।
জাতীয়ভাবে পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান ৩৩ হাজার ২০০ হ্রাস পেয়েছে। খ-কালীন কর্মসংস্থানে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে তরুণরা। গত জুনে তাদের মধ্যে কর্মসংস্থান বেড়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার। গত বছরের জুলাইয়ের পর এটাই মাসভিত্তিক কর্মসংস্থানের সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে জুনে বেকারত্বের হার ছিল ১১ দশমিক ৫ শতাংশ, যা মহামারি-পূর্ব সময়ের কাছাকাছি।
টরন্টোভিত্তিক ইয়ুথ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেসের প্রেসিডেন্ট টিমোথি ল্যাং বলেন, চাকরি হারানোর ধাক্কা যাদের ওপর সবচেয়ে বেশি পড়েছিল সেই তরুণদের জন্য এই পরিসংখ্যান ভালো সংবাদ। যদিও অনেকেই এখনও ডিজিটাল ইকোনমি, স্কিল্ড ট্রেড ও ওয়্যারহাউজের চাকরির সন্ধানে রয়েছে।
গত মে মাসে চাকরির সন্ধান করা অনেকে ছেড়ে দিলেও জুন মাসে এসে তা বেড়ে যায়। কারণ, গত জুনে শ্রমশক্তির আকার বেড়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার। সূত্র দ্য কানাডিয়ান প্রেস।





Comments