রবিবার, ১ আগস্ট ২০২১, ৯:১০ am

সশস্ত্র বাহিনীতে সংস্কারের সময়সীমা ঘোষণায় রাজি নন ট্রুডো

সশস্ত্র বাহিনীতে সংস্কারের সময়সীমা ঘোষণায় রাজি নন ট্রুডো

প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো

কানাডার সশস্ত্র বাহিনীতে যৌন অসদাচরন নিয়ে গ্রীষ্মের শেষ নাগাদ স্বাধীন রিপোর্টিং ব্যবস্থা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ঘোষণার বিষয়ে কথা দিতে রাজি নন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। প্রসঙ্গটি যখন এলো তখন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন সেদেশের সেনাবাহিনীতে বড় ধরনের সংস্কারের জন্য ৬০ দিনের মধ্যে রোডম্যাপ চেয়েছেন। যৌন নিপীড়নের মামলা সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে এর মধ্যে।

প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনার জন্য দেশ হিসেবে আমাদের যা করা উচিত, বিচারপতি লউজ আরবারকে তার প্রতি দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়েছি। আমি এবং ম্যাডাম আরবার দুজনেই একমত যে, চূড়ান্ত প্রতিবেদনের জন্য আমরা বছরব্যাপী অপেক্ষা করতে পারি না।

তবে জাস্টিন ট্রুডোর কাছে চাওয়া হলো, সেনাবাহিনীতে যৌন অসদাচরণের বিষয়ে একটি স্বাধীন রিপোর্টিং কাঠামোর পরিকল্পনা গ্রীষ্মের শেষ নাগাদ তিনি করবেন কিনা।

এদিকে বিষয়টি সামনে এনেছেন। সেনাবাহিনীতে যৌন হয়রানীর সমস্যা সমাধানে বাহিনীতে যে ধরনের সংস্কার তিনি দেখতে চান সে বিষয়ে শুক্রবার একাধিক টুইট করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী অস্টিন। তিনি বলেন,  যৌন হয়রানীর বিচার সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড থেকে বাদ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে প্রতিরক্ষা বিভাগকে নির্দেশ দিচ্ছি। এর পরিবর্তে যৌন হয়রানী ইউনিফর্ম কোড অব মিলিটারি জাস্টিসে অন্তর্ভূক্ত করার পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি।

যৌন হয়রানীসহ গৃহ নির্যাতন, শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধগুলোর মামলা পরিচালনার জন্য সেনাবাহিনীর প্রত্যেক বিভাগে স্বতন্ত্র অফিস করা হবে বলেও জানান অস্টিন। এখানে সবচেয়ে লক্ষণীয় হলো এসব সংস্কারের একটি রোডম্যাপ তৈরি করে ৬০ দিনের মধ্যে তার সামনে উত্থাপন করতে উপ প্রতিরক্ষা মন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন অস্টিন।

কানাডার সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ নিয়ে গ্লোবাল নিউজে খবর প্রকাশের পর এ নিয়ে পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে দেশটিতে তরজা চলছে। বিশেষজ্ঞরা একে দেখছেন প্রাতিষ্ঠানিক সঙ্কট হিসেবে। মিলিটারি পুলিশ এসব অভিযোগ তদন্ত করে দেখছে। দুটি সংসদীয় কমিটির তদন্তের পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি লুইজ আরবারের নেতৃত্বে নিরপেক্ষ পর্যালোচনার কাজও চলছে। চূড়ান্ত পর্যালোচনা প্রতিবেদন দাখিল করতে এক বছর বা তা কিছু বেশি সময় লাগতে পারে বলে ইঙ্গি পাওয়া গেছে। 

Comments