শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৬:১৭ pm

কোভিড বদলে দিয়েছে ওল্ড মন্ট্রিয়লকে


কোভিড বদলে দিয়েছে ওল্ড মন্ট্রিয়লকে

ছবি/ ইভা ব্লু, মন্ট্রিয়ল ট্যুরিজম

মন্ট্রিয়লের বিখ্যাত নেবারহুড ওল্ড মন্ট্রিয়লে কোভিড-১৯ মহামারি শুরুর পর থেকেই পর্যটন নেই। এখানকার বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও কর্মীরা বলছেন, এলাকাটি এখন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে রাতের বেলায়। তাদের আশা, মন্ট্রিয়ল কোভিড বিধিনিষেধ তুলে নিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকা- খুলতে শুরু করায় পর্যটকরা নিশ্চয় আবার আসতে শুরু করবেন এবং এ বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটবে।

এলাকাটিতে ২৫ বছর ধরে রেস্তোরাঁ পরিচালনা করে আসছেন ফিলালি। জেলাটিতে সহিংতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে একটা ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কর্মীদের আমি বলে দিয়েছি, রাতে রেস্তোরাঁ বন্ধ করার পর তালা মেরে দিতে। এরপর কারও জন্যই সেটা আর খোলা হবে না।

এলাকাটিতে গত সেপ্টেম্বরে গুলিতে এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। এপ্রিলে দাঙ্গাকারীরা কোভিড-১৯ কারফিউ ভঙ্গ করে নেবারহুডজুড়ে দোকানপাটের জানালা ভাংচুর করে ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। খুব সম্প্রতি কারফিউয়ের অবসান উদযাপনের উদ্দেশে আয়োজন করা একটি আউটডোর পার্টিতে দুর্বৃত্তরা ১৮ বছর বয়সী এক নারীর পায়ে ও ১৯ বছর বয়সী এক যুবককে ছুরিকাঘাত করে। গত জানুয়ারি থেকে মন্ট্রিয়লে কারফিউ চলছিল।

সাম্প্রতিক এ সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে ওল্ড পোর্ট অব মন্ট্রিয়লে রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করতে বাধ্য হয়। ওল্ড পোর্টের মুখপাত্র জাঁ ফিলিপে রোচেট্টে বলেন, গত ১৪ মাসে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে যা আমাকে স্তম্ভিত করেছে। এলাকায় বড়সড় আউটডোর পার্টির বিষয়ে তিনি বলেন, সাধারণত এটা পর্যটক ও পারিবারিক খাত এবং আমরা সেভাবেই রাখতে চাই।

চার দশক ধরে এলাকাটিতে বসবাস করছেন ভেরোনিক পাসক্যাল। পার্টি ও উচ্চ স্বর জেলার জীবনযাত্রার অংশ হয়ে গেছে। স্বাস্থ্য সংকট সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। 

১৫ বছর ধরে ওল্ড মন্ট্রিয়লে বাস করছেন ক্যারোলিন পিন্টো সেলেরি। নেবারহুডটিকে ব্যয়বহুল বলতে রাজি নন তিনি। তার ভাষায়, গত অক্টোবরে বারগুলো বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে অব্যাহতভাবে রাস্তায় পার্টির আয়োজন বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়তে বাধ্য করছে।

কুইবেক সরকার গত ২৮ মে কারফিউ প্রত্যাহার প্রদেশজুড়ে রেস্তোরাঁ খোলার অনুমতি দিয়েছে। তারপর থেকে ওল্ড মন্ট্রিয়লের রাস্তায় পার্টি ও সহিংসতার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত পোস্ট করা হচ্ছে। খবর দ্য কানাডিয়ান প্রেস। 

 

 

Comments