শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১, ২:২৯ am

শিক্ষার্থীদের প্রতারণা শেখাচ্ছে ভার্চুয়াল ক্লাস?

শিক্ষার্থীদের প্রতারণা শেখাচ্ছে ভার্চুয়াল ক্লাস?

ভার্চুয়াল ক্লাসের এক মাসও তখন হয়নি। তার আগেই প্রতারণার নতুন কৌশল রপ্ত করে ফেলে শিক্ষার্থীরা। বন্ধুদের সঙ্গে গোপনে টেক্সট মেসেজ আদান-প্রদানের পাশাপাশি অ্যাপও নামিয়ে ফেলে তারা। প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে সক্ষম এসব অ্যাপ।
অন্টারিওর থর্নহিলের একটি হাইস্কুলের গণিতের শিক্ষক অলিভিয়া মেলেটা বলছিলেন, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে শিক্ষার্থীরা যখন গণিত পরীক্ষার উত্তরপত্র জমা দেয়, তখনই আমি বুঝতে পারি যে, কিছু একটা গন্ডগোল হয়েছে। কারণ, যেসব পদ্ধতিতে অংকগুলোর সমাধান করা হয়েছে, সেগুলো আমি বা আমার সহকর্মীরা শেখাইনি। যে পদ্ধতিতে অংকগুলো সমাধান করা হয়েছে সেগুলো ছিল বেশ জটিল প্রকৃতির। ২০টি ধাপে তারা এর সমাধান করেছে। আমরা যেখানে পাঁচ থেকে ছয়টির বেশি শিখাইনি।
কীভাবে এটা হলো? একজন সহকর্মীর কাছ থেকেই উত্তরটা জেনেছেন মেলেটা। তিনি বলেন, ফোটোম্যাথ নামে একটি অ্যাপ ডাউনলোড করে তার সাহায্যে সমস্যার সমাধান করেছে শিক্ষার্থীরা।
অ্যাপটির সাহায্যে প্রথমে গাণিতিক সমস্যাটি স্ক্যান করে নেওয়া হয়। এরপর সেটি সমাধানে একটির পর একটি ধাপ বাতলে দেয় অ্যাপটি। ফোটোম্যাথ অ্যাপটি চালু হয় ২০১৪ সালে এবং এখন পর্যন্ত বিশ^ব্যাপী ১৫ কোটিবার এটি ডাউনলোড করা হয়েছে। ডাউনলোডকারীদের মধ্যে শিক্ষক রয়েছেন অন্তত ১০ লাখ।
শ্রেণিকক্ষের সঙ্গে কীভাবে এটি অন্তর্ভূক্ত করা যায়, শিক্ষকদের সহায়তায় সে সম্পর্কে একটি নীতিমালা তারা তৈরি করেছেন বলে দাবি কোম্পানিটির একজন মুখপাত্র।
এ ধরনের আরেকটি অ্যাপ হলো ম্যাথওয়ে। এ অ্যাপটিরও কয়েক লাখ ব্যবহারকারী রয়েছেন এবং এর সাহায্যে কয়েকশ কোটি গাণিতিক সমস্যার সমাধানও করা হয়েছে। অ্যাপটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সব শিক্ষার্থী যাতে মানসম্মত তাৎক্ষণিক সমাধান পায়, সেটাই এর উদ্দেশ্য।
শিক্ষার্থীদের হোমওয়ার্কের ক্ষেত্রে সহায়ক মাধ্যম হিসেবেই এগুলোকে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, তবে পরীক্ষার সময় যাতে এগুলোর সহায়তা না নেওয়া হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে শিক্ষকদের।
মেলেটা ফোটোম্যাথ অ্যাপটি ডাউনলোড করেছেন এবং প্রশ্নপত্রে দেওয়া সবগুলো অংক এর সাহায্যে সমাধানও করেছেন। তার কথায়, যে পদ্ধতিতে আমি সমাধান করেছি, একই পদ্ধতিতে যদি এটিও সমাধন করতো তাহলে পার্থক্যটা আমি ধরতে পারতাম না।
অনলাইন পাঠদানে প্রথাগত নকলের ঘটনাও যে ঘটছে না, তেমন নয়। বন্ধুদের কাছ থেকে উত্তর নকল করে কাগজের বদলে টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে তা পাঠিয়ে দিচ্ছে অনেকে। এর সমাধানের উপায়ও তৈরি করেছেন মেলেটা। একই পরীক্ষার চার থেকে পাঁচটি ভার্সন প্রস্তুত করছেন। তবে এজন্য তাকে কিছুটা বাড়তি সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।
শেরিল কস্টিগান নামে থর্নহলের আরেক শিক্ষক বলেন, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে তার শিক্ষার্থীরা এখন বেশি প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে। এটা যেন সবার জন্যই উন্মুক্ত। সবাই সব সময় প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে।



Comments