বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১, ১:৩৩ pm

দ্রুত সামাল দেয়া প্রদেশগুলোর করোনা নিয়ন্ত্রণ ছিল বেশি

দ্রুত সামাল দেয়া প্রদেশগুলোর করোনা নিয়ন্ত্রণ ছিল বেশি

কানাডায় প্রায় ১০ মাস আগে ছড়িয়ে পড়া করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে দ্রুত তৎপর প্রদেশগুলোর নিয়ন্ত্রণ সাফল্য ঘটেছে সবচেয়ে বেশি, তেমনটাই জানা গেছে চলতি বছর শেষের এক জরিপে। এতে যে সকল প্রদেশ, বিশেষ করে আটলান্টিক কানাডায়, যারা সংক্রমণের বিষয়কে উপেক্ষা করেছে এবং তা প্রতিরোধে তৎপর হয়নি, তারাই সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের মুখোমুখি হয়েছে। ফলে কোভিড-১৯ এর ‘সেকেন্ড ওয়েভ’ বা দ্বিতীয় ঢেউ দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়লে, কঠোর প্রতিরোধে তৎপর প্রদেশগুলো দ্রুত সংক্রমণ রোধে সক্ষম হয়েছে।
জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যম সিবিসি প্রদেশগুলোর নেয়া সেই উদ্যোগের ক্ষেত্রে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাত্ত পর্যালোচনায় দেখেছে, যখন প্রদেশগুলো নতুন সংক্রমণ প্রতিরোধে তুলনামূলক ধীর পদক্ষেপ নিয়েছে, সেক্ষেত্রে তাদের নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা জটিল আকার ধারণ করেছে। লন্ডনে অবস্থিত ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এপিডমোলজি ও বায়োস্ট্যাটিসটিক্সের অধ্যাপক সেভেরিও স্ট্র্যাঞ্জেস বলেন, ‘এটা কেবল জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট কোনো পদক্ষেপ নয়। বরং সময় মতো পদক্ষেপ গ্রহণের বিচার্য। আর সেটা হচ্ছে কঠিন সময়ের প্রেক্ষাপটে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ।’
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অক্সফোর্ড কোভিড-১৯ গভর্ণমেন্ট রেসপন্স ট্র্যাকার’-এর মূল্যায়ণ মতে প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক নীতিমালায় যে সব বিষয়ের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, যেমন- ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, স্কুল বন্ধ, মাস্কের ব্যবহার, করোনা পরীক্ষা, বেতন ভর্তুকি ও ঋণ মওকুফ - এ সব বিষয়ে যারা তৎপর থেকেছে, তারাই অধিকতর সংক্রমণ প্রতিরোধে সাফল্য অর্জন করেছে।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, আলবার্টা ও ম্যানিটোবা প্রদেশের গৃহীত পদক্ষেপ ও ফলাফল বিশ্লেষণে সে চিত্রটি সুস্পষ্ট। এতে এপ্রিল থেকে পহেলা ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে প্রতি সপ্তাহে এক লাখ জনগোষ্ঠির উপর পর্যায়ক্রমিক দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ প্রদেশগুলো হচ্ছে- আলবার্টা, ম্যানিটোবা, সাসকাচুয়ান, ক্যুইবেক, ব্রিটিশ কলাম্বিয়া, অন্টারিও, নোভা স্কোশিয়া, নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড লাব্রাডোর, প্রিন্স এডওয়ার্ড আইল্যান্ড, ইয়োকন ও নর্থ ওয়েস্ট টেরিটরি। এমনকী সেপ্টেম্বর থেকে দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে, আলবার্টা ধীর পদক্ষেপ নেয়ায় কানাডায় সর্বাধিক করোনা সংক্রমণের ফাঁদে পড়েছে। সে তুলনায় যদিও ম্যানিটোবা ছিল কিছুটা তৎপর।
টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোঁয়াচে রোগ ও মহামারি প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ কলিন ফার্নেসের মতে, ‘প্রথম ঢেউয়ে আলবার্টা ও ম্যানিটোবাকে তেমনটা প্রাণপণ চেষ্টা করতে হয়নি এবং তাতে তাদের মাঝে ভ্রান্ত ধারণার সৃষ্টি হয়, তারা সহজেই সামাল দিতে পেরেছে। তাদের ভাবা উচিত ছিল, ক্যুইবেকে কি ঘটেছে। আটলান্টিক প্রদেশগুলোও তদ্রুপ ভুল করেছে। তারা ভেবেছিল, ¯্রষ্টার কৃপায় তারা ভালো আছে।’
অন্যদিকে, জুলাই মাসে নোভা স্কোশিয়া, নিউ ব্রান্সউইক, প্রিন্স এডওয়ার্ড আইল্যান্ড এবং নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড লাব্রাডোর নিজ প্রদেশে সীমাবদ্ধ গন্ডিতে যাতায়াত প্রচলন করে বাইরে থেকে পরিভ্রমণের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। অথচ সেই সীমাবদ্ধ গন্ডির মানুষরা থেকেছে বেপরোয়া। শেষটায় সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় তা বাধ্য হয়েই পরিত্যাজ্য করেছে।
তারপরও স্বাস্থ্য সেবা ও জনসংখ্যার বৈশিষ্ঠ্য বিবেচনায় বিভিন্ন প্রদেশে গৃহীত করোনা মহামারি সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলো ছিল ভিন্নতর। অর্থাৎ বলতে গেলে, অভিন্ন কানাডায় ১০টি প্রদেশ ও ৩টি অঞ্চলে ভিন্নধর্মী পদক্ষেপ নিয়ে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ প্রয়াস চলেছে। যেমন- বিশেষজ্ঞ কলিন ফার্নেসের ভাষায়, জনঘনত্ব বা জনসংখ্যার আধিক্যপূর্ণ এলাকার তুলনায় কম জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সংক্রমণ প্রতিরোধ ছিল সহজতর। অর্থাৎ ‘তা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ছিল না।’
তথাপি গ্রামীণ এলাকায় করোনা সংক্রমণের সম্ভাব্যতা ছিল, যদি সেখানে ‘সুপার স্প্রেডার’ বা জনসমাবেশপূর্ণ আয়োজন করা হতো। এতে ওই অক্সফোর্ড উপাত্ত অনুসারে অন্টারিও, ক্যুইবেক, নিউ ব্রান্সউইক, নোভা স্কোশিয়া, নুনাভাট ও প্রিন্স এডওয়ার্ড আইল্যান্ডে সবচেয়ে বেশি কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আর কম নিষেধাজ্ঞা আরোপপূর্ণ প্রদেশগুলো হচ্ছে- ম্যানিটোবা, ব্রিটিশ কলাম্বিয়া ও আলবার্টা। এছাড়া সংক্রমণ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে অধ্যাপক স্ট্র্যাঞ্জেসের অভিমত, ‘জন চলাচল, ভৌগোলিক অবস্থান, স্বাস্থ্য সেবার সুযোগ, জনসংখ্যাতত্ত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি সেবাশ্রমের বাধ্যবাধকতার অনুষঙ্গগুলো অতীব গুরুত্বপূর্ণ।’                                     

Comments