শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১, ৩:০৭ am

গৃহহীণ আদিবাসীদের সহায়তায় স্থানীয় সাত সংগঠন


গৃহহীণ আদিবাসীদের সহায়তায় স্থানীয় সাত সংগঠন

গৃহহীণ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা আদিবাসী মানুষদের সহায়তায় একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে স্থানীয় সাতটি আদিবাসী সংগঠন। প্রকল্পটির আওতায় সার্কেল অব লাইফ থান্ডারবার্ড হাউজের কাছে ২২টি ছোট বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে।

প্রকল্পটিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে মা মাউয়ি উয়ি চি ইতাতা সেন্টার। সহযোগিতায় আছে আরও ছয়টি সংগঠন, যার মধ্যে এন্ড হোমলেসনেস উইনিপেগ অন্যতম। প্রকল্প নির্দেশনায় রয়েছে ইনডিজিনাস ইল্ডারস।

এন্ড হোমলেসনেস উইনিপেগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রেসিডেন্ট লুসিলে ব্রুস শুক্রবার বলেন, কিকিনিনো ওমা-আনশেল্টার্ড স্ট্র্যাটেজি প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। উইনিপেগে গৃহহীণতার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাদেরকে যেতে হচ্ছে তাদের জন্য আবাসনের বন্দোবস্তের সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে।

প্রকল্পটির সঙ্গে আরও আছে ঈগল আরবান ট্রানজিশন সেন্টার, অ্যাবোরোজিনাল কাউন্সিল অব উইনিপেগ, অ্যাবোরোজিনাল হেলথ অ্যান্ড ওয়েলনেস সেন্টার, কা নি কানিচিক এবং থান্ডারবার্ড হাউজ।

লুসিলে ব্রুস বলেন, ভিলেজ প্রকল্পের নকশার জন্য আমরা তাঁবুতে বসবাসকারীদের পাশাপাশি ইনডিজিনাস ইল্ডারস এবং আদিবাসীদের নিয়ে কাজ করা ছয় অংশীদারের পরামর্শ নিচ্ছি। প্রকল্পটি গৃহহীণ ও তাঁবুতে বসবাসকারীদের চাহিদা যাতে পুরোপুরি পূরণ করতে পারে সেজন্য অংশীদারদের চিন্তা ও ধারণাগুলো আমরা গ্রহণ করছি।

উইনিপেগে বসবাসকারী মোট নাগরিকের ১২ শতাংশ আদিবাসী। এছাড়া ম্যানিটোবার এক-তৃতীয়াংশ আদিবাসী মানুষও বাস করে শহরটিতে। এসব আদিবাসীর মধ্যে দারিদ্র্যের হার শহরের দারিদ্র্যের হারের দ্বিগুণ। এছাড়া আদিবাসীদের মধ্যে গৃহহীণের হার শহরের গড় গৃহহীণের হারের ছয়গুণ। কানাডিয়ান সেন্টার ফর পলিসি অল্টারনেটিভস ম্যানিটোবা অফিসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এর কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, আদিবাসীদের প্রথাগত অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে দমিয়ে রাখতে সরকারের যে নীতি দেড়শ বছর ধরে চালু আছে তার কারণেই আদিবাসীদের এ করুণ পরিণতি। জমি ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পরিবার থেকে আদিবাসী সন্তানদের জোর করে আলাদা করাও এর আরেকটি একটি কারণ।

উইনিপেগের দুই-তৃতীয়াংশ গৃহহীণের ৮০ শতাংশই ফার্স্ট নেশন এবং ১৫ শতাংশ মেটিস সম্প্রদায়ের। গৃহহীণতা তাদের স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে এবং কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

 

 

Comments