বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১, ১:০৭ pm

ভ্যাক্সিন নিয়ে দু'টি কথা

ভ্যাক্সিন নিয়ে দু'টি কথা

দুটি পত্রিকার রিপোর্ট থেকে মনটা খারাপ হয়ে গেলো । ধনী দেশগুলি যে পরিমান ডোজ ভ্যাক্সিনের জন্য ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানীগুলির সাথে চুক্তিবন্ধ হয়েছে তাতে এই ধনী দেশগুলি প্রয়োজনের অতিরিক্ত ডোজ ভ্যাক্সিন মওজুদের সুযোগ পাবে। এতে করে গরিব বা অনুন্নত দেশগুলির জনসংখ্যার ১০জনের মধ্যে ৯জনই ভ্যাক্সিন নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে।

Amnesty International এর রিপোর্ট মতে  এই ধনী দেশগুলি তাদের সমগ্র  জনসংখ্যার প্রায় ৩ গুন ডোজ ভ্যক্সিন মওজুদ করবে । প্রায় ৭০ টি দেশে জনসংখ্যা ১০ জনের মধ্যে মাত্র ১ জন ভ্যাক্সিন নেওয়ার সুযোগ পাবে, আর বাকী ৯ জন ভ্যাক্সিন গ্রহন করতে পারবে না ।

কানাডা তার জনসংখ্যার প্রায় ৫ গুন বেশি ডোজ ভ্যাক্সিনের জন্য ইতিমধ্যে চুক্তিবন্ধ হয়েছে ।

এক ডেটা থেকে জানা যায় এই ধনী দেশগুলি পুরো পৃথিবীর জনসংখ্যার মাত্র ১৪% এর প্রতিনিধিত্ব করে অথচ তারা মোস্ট প্রমিজিং ভ্যাক্সিনের ৫৩% তাদের দেশে নিয়ে মজুদ করবে । ৬৭ টির মত অনুন্নত অথবা অনুন্নত মধ্য আয়ের দেশ ধনী দেশগুলির এই প্রতিযোগিতার কারনে বৈশ্বিক মহামারী থেকে মুক্তির পথ থেকে অনেক দূরে পড়ে থাকবে ।

ভ্যাক্সিনের এই অসমবন্টন বিশ্বের গরিব দেশগুলির জনসংখ্যাকে এক ভয়াবহ ঝুকির মধ্যে ফেলে দিবে । বিশ্বের ধনী দেশগুলির জনগন যখন ভ্যাক্সিন নিয়ে ভাইরাস থেকে মুক্তির স্বাদ পাবে ঠিক সেই সময় এই গরিবদেশগুলির মানুষগুলি মহামারীতে মৃত্যুর মুখে পতিত হবে ।

বিষয়টি অমানবিক এবং দুঃখজনক। 

আমি নিজেকে দিয়েই যদি বিচার করি তাহলে দেখতে পাবো , আমি যখন কানাডাতে ভ্যাক্সিন নিচ্ছি তখন আমার দেশে বাবা, ভাই-বোন, বন্ধু-বান্ধব ভ্যক্সিন পাচ্ছে না । তারা ঝুঁকির মধ্যে থেকে যাচ্ছে । আমরা যখন মহামারী থেকে মুক্তির স্বাদ নিবো তখন তারা প্রতিনিয়ত মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে যাবে । এই রকম এক দুঃখজনক, বেদনার অনুভূতি আমার, আপনার, আমাদের সবাইকে তাড়িয়ে বেড়াবে ।

এই অবস্থায় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পনী এবং ধনী দেশগুলির দায়িত্ব রয়েছে গরিব দেশগুলির মানুষগুলিকে এই মহামারীর হাত থেকে রক্ষা করার । তারা নিশ্চয়ই মানবিক দিকটি বিবেচনা করে এগিয়ে আসবেন । 

কানাডার প্রাইমিনিস্টার জাস্টিন ট্রুডো ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন তার সরকার প্রয়োজনে অতিরিক্ত ভ্যাক্সিন গরিব দেশগুলিকে দিয়ে দিবে । আসলে এমন ঘোষণা প্রতিটি ধনী দেশের অঙ্গিকার হওয়া উচির । আমি মনে করি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানীগুলিও এই মানবিক দিকটি বিবেচনা করে ব্যবসায়িক মুনাখোরি চিন্তা বাদ দিয়ে তারাও গরিব দেশগুলির মানুষগুলিকে বাচাতে এগিয়ে আসবে ।

আমি আশাবাদী । আমি যখন কোরোনা ভাইরাস থেকে মুক্তির স্বাদ পাবো তখন বিশ্বের প্রতিটি মানুষ এই মুক্তির স্বাদ পাবে । বিশ্ব মানবতার জয় হোক, মানুষ মুক্তি পাক ।

Comments