Thu 13th Aug 2020, 11:07 am

নতজানু পরারাষ্ট্রনীতির কারণে পানি সমস্যার সমাধানে সরকার ব্যর্থ: মির্জা ফখরুল

নতজানু পরারাষ্ট্রনীতির কারণে পানি সমস্যার সমাধানে সরকার ব্যর্থ: মির্জা ফখরুল

বাংলামেইল ডটকম ডেস্ক

বাংলাদেশের বিরোধী দল বিএনপি আভিযোগ করেছে, ক্ষমতাসীনদের নতজানু পরারাষ্ট্রনীতির কারণে ভারতের সাথে পানি সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। যার ফলে  বাংলাদেশের নদী অববাহিকায় বসবাসকারী মানুষেরা প্রায় প্রতিবছর একাধিকবার বন্যায় আক্রান্ত হয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে যাচ্ছে। আজ (সোমবার) দুপুরে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমন অভিযোগ করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ভারত অভিন্ন নদীগুলোর সকল বাঁধ এবং ব্যারেজের গেট খুলে দেওয়ায় উজান থেকে নেমে আসা বন্যার পানিতে  বাংলাদেশে ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, মেঘনা, মহানন্দা, পদ্মা, তিস্তা ও ধরলা নদীর অববাহিকায় ৩৪টি জেলা ইতিমধ্যেই প্লাবিত হয়েছে। কয়েকটি জেলায় এক মাসের মধ্যে ২-৩ বার বন্যা হয়েছে।বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভারতের সঙ্গে অভিন্ন নদী প্রায় ১৫৪টি। একমাত্র পদ্মার ফারাক্কা বাঁধ ব্যতীত এগুলোর কোনোটারই কোনো পানিবণ্টন চুক্তি সম্পন্ন হয় নি ভারতের অনীহার কারণে । ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশন প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে আছে।তিনি উল্লেখ করেন,  তিস্তা চুক্তির বিষয়ে এই সরকার অনেক আশার বাণী শোনালেও গত এক দশকে ভারতের সাথে কোনো চুক্তিই করতে সক্ষম হয় নি অথচ তারা ভারতের সাথে একের পর এক ট্রানজিট, বন্দর ব্যবহার, বিদ্যুৎ ক্রয়সহ অসংখ্য অসমচুক্তি স্বাক্ষর করেছে। অন্যদিকে সীমান্তে প্রায় প্রতিদিন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বাংলাদেশীদের গুলি করে হত্যা করছে। সে ব্যাপারেও সরকার কোনো কার্যকর প্রতিবাদ জানাতে সাহস পায় নি। এ সময় মির্জা ফখরুল আরো বলেন, করোনা মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতা, চরম উদাসীনতা, অবহেলা ও দুর্নীতির কারণে যেমন গোটা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। ঠিক তেমনি বন্যার বিষয়েও তাদের নির্লিপ্ততা এবং নিষ্ক্রিয়তা  জনগণকে আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলেছে।মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, একদিকে কোভিড-১৯ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে, অন্যদিকে বন্যা পরিস্থিতির অবনতিতে বাংলাদেশের মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। একদিকে করোনা মোকাবিলায় সরকারের চরম ব্যর্থতা মানুষের জীবন ও জীবিকাকে বিপন্ন করে তুলেছে, অন্যদিকে ভারতের উজান থেকে বন্যার পানি নেমে আসাতে মানুষের সম্পদহানি, বাড়িঘর ভেঙ্গে যাওয়া, গবাদী পশুর মৃত্যু, ফসলহানি দেশের মানুষক সীমাহীন কষ্ট ও অর্থনৈতিক অসহায়ত্বের মধ্যে ফেলেছে।মির্জা ফখরুল বলেন, প্রতিদিন গণমাধ্যমে আসছে বন্যার্ত মানুষের আহাজারি, তাদের অসহায়ত্বের কথা, সহায়-সম্বল হারিয়ে সড়কের অথবা বাঁধের ওপরে আশ্রয় নেয়া, শিশু-সন্তান, বৃদ্ধ পিতা-মাতা নিয়ে খোলা আকাশের নিচে অভুক্ত থাকার খবর। দু:খজনকভাবে  এই বিষয়গুলোতে  ক্ষমতাসীনরা নির্লিপ্ত।  কারণ, জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহি করতে হয় না। করোনা-বন্যা এসব দুর্যোগ এলে বরঞ্চ তারা খুশি হয় - দুর্নীতির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয় বলে।তিনি বলেন, বিএনপি সব সময়ই যে-কোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ায়। সর্বশেষ করোনা দুর্যোগে পাশে দাঁড়িয়েছে বিএনপি। বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে আহ্বায়ক করে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে একটি জাতীয় ত্রাণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা অবিলম্বে কাজ শুরু করবেন।অবিলম্বে বন্যা দুর্গত এলাকায় প্রয়োজনীয় ত্রাণের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান মির্জা ফখরুল।  একইসাথে  তিনি  দুর্গত এলাকায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের সকল নেতা-কর্মী এবং দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

 

Comments