Mon 13th Jul 2020, 8:57 am

বিএনপির মিডিয়াবাজির রাজনীতিতেও ভাটা পড়েছে: কাদের

বিএনপির মিডিয়াবাজির রাজনীতিতেও ভাটা পড়েছে: কাদের

বাংলামেইল ডটকম ডেস্ক
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘করোনা সংকটের সময়েও জনগণের পাশে না দাঁড়ানো বিএনপির মিডিয়াবাজির রাজনীতিতেও ভাটা পড়েছে। এ কারণে তারা গণমাধ্যমকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কর্মভীরু বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীররা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে বাক্যালাপে বীরত্ব প্রদর্শন করছেন।’ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, করোনা সংকট জয়ের লক্ষ্যে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালাতে হবে। পরম করুণাময়ের অশেষ কৃপায় এই সংকট আমরা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবো।

‘গণমাধ্যম সত্য প্রচারে শঙ্কিত’- মির্জা ফখরুলের এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘গণমাধ্যম সত্য প্রচারে নির্ভিক, বরং বিএনপিসৃষ্ট গুজব প্রচারে অনীহ। দেশবাসী দেখেছে, গত এক দশকের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন আন্দোলনে সরকারবিরোধী প্রচারণায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সবক্ষেত্রে বিএনপি কীভাবে গুজব ছড়িয়েছে। এর মাধ্যমে তারা রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অপচেষ্টা চালিয়েছে এবং গুজবভিত্তিক রাজনীতির বৈধতা দিয়েছে।’

করোনা মোকাবিলায় গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সংকটময় এই সময়ে সাংবাদিক বন্ধুরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করে চলেছেন। প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে তারা সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে অগ্রগণ্য। অধিকাংশ গণমাধ্যমকর্মী দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করে চলেছেন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল এসব সাংবাদিকদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘মির্জা ফখরুল মন্তব্য করেছেন, বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে চারটি পত্রিকা ছাড়া সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার জ্ঞাতার্থে জানাতে চাই, তৎকালীন বঙ্গবন্ধু সরকারের সময় দৈনিক, সাপ্তাহিক ও অন্যান্য মিলে ১২৬টির মত সংবাদপত্র প্রকাশিত হতো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবাদপত্রের জগতে বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠার জন্য সাংবাদিকদের মাধ্যমে গঠিত কমিটির সুপারিশে একটি কাঠামো দাঁড় করিয়েছিলেন মাত্র।’

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরপর সদ্য স্বাধীন দেশে দেশবিরোধী নানা অপতৎপরতা শুরু হয়। দেশের জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ না থেকে বিদেশের টাকায় রাতারাতি সংবাদপত্র প্রকাশ করে জাতীয় বিভাজন ও সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করা হয়। এই বিষবাষ্প থেকে জাতিকে রক্ষা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বলীয়ান হয়ে সাম্যভিত্তিক সমাজ নির্মাণের লক্ষ্যে জাতির পিতা ‘গণতন্ত্র’ প্রত্যয়টির চেয়ে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির ওপর জোর দিয়েছিলেন। বাকশাল ছিল সেই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার অভিযাত্রা। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান নিজেও বাকশালের কার্যকরী সদস্য ছিলেন। বাকশাল কোনো একদলীয় ব্যবস্থা ছিল না, সব মত-শ্রেণি-পেশার সমন্বয়ে একটি জাতীয় দল ছিল।

সেতুমন্ত্রী বলেন, কথায় কথায় বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, ‘দেশে গণতন্ত্র নেই’। গণতন্ত্র না থাকলে বিএনপি নেতারা কীভাবে সরকারের বিরুদ্ধে এত মিথ্যাচার করার সুযোগ পান? জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমে ৯৯ শতাংশ ভোট ডাকাতি এবং সামরিক শাসনতন্ত্রের মোড়কে ১৯৭৯ সালের ‘গণতান্ত্রিক নির্বাচন’ এর ইতিহাস এখনও বই-পুস্তক ও জাতীয় স্মৃতিতে জ্বলজ্বলায়মান। সুতরাং বিএনপির মুখে আর যাই হোক গণতন্ত্রের কথা শোভা পায় না। পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর অবরুদ্ধ গণতন্ত্রকে শৃঙ্খলমুক্ত করে সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সফল নেতৃত্ব দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।

Comments