Tue 12th Dec 2017, 8:46 am

গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণে ইসলামের নির্দেশ

image

কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর ইতিবাচক কথোপকথন যা ওই বিষয়ের বিশদ তথ্য উপস্থাপন করে এবং বিষয়ের পক্ষে ও বিপক্ষে মত প্রকাশ করে তাকে আলোচনা বলে। 

 

পক্ষান্তরে সমালোচনা বলা হয়, কোনো বিষয়ের ওপর চুলচেরা বিশ্লেষণকে। বিশেষ করে ওই বিষয়ের নেতিবাচক দিক এবং এর প্রভাব নিয়ে করা বিশ্লেষণ ও মন্তব্যকে। 

অনেক ক্ষেত্রে সমালোচনা সবচেয়ে বিনয়ী মানুষটির জন্যও মোকাবেলা করা কঠিন হয়ে যায়, যদি এটা হয় অন্যায়ভাবে কিংবা ভুল পদ্ধতিতে। এমন সমালোচনা অনেকাংশেই উপকারের বদলে অপকার বয়ে আনে। গভীর সম্পর্কে বিষাক্ত ক্ষত সৃষ্টি করে, ঘনিষ্ঠতম বন্ধুদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে। 

ইসলাম অবশ্য ঢালাও সমালোচনাকে সমর্থন করে না। তবে সমালোচনাকে সবিনয়ে গ্রহণ করে সেখান থেকে ইতিবাচক কিছু গ্রহণের কথা বলে। ইসলাম সমাজ-সংস্কৃতি, গণমানুষের স্বার্থ, সার্বজনীন নৈতিকতা ও জীবন পদ্ধতির সঙ্গে সম্পর্কিত জনগুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ রক্ষার প্রয়োজনে সমালোচনার স্বাধীনতাকে বৈধতা দিয়েছে। কাউকে তোয়াক্কা না করে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সত্য কথা বলা, সমালোচনা করা, সং কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করাকে ধর্মীয় কর্তব্যের অংশ বলে গণ্য করা হয়েছে।

সত্যের প্রতি আহ্বান, সৎ লোকদের উৎসাহ প্রদান, দুষ্কৃতিকারীদের নিন্দা করাকে ঈমানদারীর লক্ষণ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। ঈমানদার ব্যক্তির নীরবতা যদি সমাজের ক্ষতির কারণ হয়, তাহলে এ জন্য আল্লাহর কাছে তাকে জবাবদিহি করতে হবে। এ কারণে ঈমানদার ব্যক্তির ওপর অপরিহার্য দায়িত্ব হয়ে পড়ে, সত্যের পক্ষে কথা বলার জন্য এগিয়ে আসা এবং এক্ষেত্রে কোনো রক্ত চক্ষুর হুমকি বা কোনো পরিণতির পরোয়া না করে সত্যকে সবার ওপরে স্থান দেওয়া।

Comments