Tue 18th Feb 2020, 1:08 am

তাবিথের ভোটে থাকতে বাধা নেই

তাবিথের ভোটে থাকতে বাধা নেই

বাংলামেইল ডটকম ডেস্ক

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় বাকি আর মাত্র চার দিন। এ সময়ের মধ্যে হলফনামার তথ্যসংক্রান্ত বিষয়ের সুরাহা করা সত্যতা যাচাই করা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। নির্বাচনের পরে যেহেতু বিষয়টি আদালতে উত্থাপন করার সুযোগ রয়েছে তাই ফলাফলের ভিত্তিতে পক্ষসমূহের মধ্য থেকে যে কেউ নির্বাচনের পরে প্রশ্ন তুলতে পারবেন। বিষয়টি নির্বাচনের পর হলে উভয়পক্ষের জন্য মঙ্গলজনক হবে।

সোমবার (২৭ জানুয়ারি) বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের বিরুদ্ধে হলফনামায় সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ এনে তার প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে করা রিট খারিজ করে এসব কথা জানিয়েছেন হাইকোর্ট। এই রিট আবেদনটি করেছিলেন সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক। আসন্ন উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপি প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের বিরুদ্ধে হলফনামায় সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ এনে তার প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে রিট দায়ের করা হাইকোর্ট।

বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট আবেদনটি পর্যবেক্ষণসহ খারিজ করে দেন। আদালত আদেশে বলেছেন, তথ্য গোপনের পক্ষে রিটকারী যে নথিপত্র দিয়েছেন তার সত্যতা যাচাই করা সিটি করপোরেশশন নির্বাচনের এ পর্যায়ে সম্ভব নয়। রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালত আদেশে আরো জানান, তাবিথ আওয়াল নির্বাচনে বিজয়ী হলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের যে কেউ হলফনামায় তথ্যগোপনের বিরুদ্ধে প্রতিকার চাইতে পারবেন। গতকাল রোববার (২৬ জানুয়ারি) রিট করেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী।  

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট কামরুল হক সিদ্দিকী এবং তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ মইনুল ইসলাম।

এদিকে, তাবিথের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন আহমেদ ও অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন আর তাদের সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, এ কে এম এহসানুর রহমান, জামিউল হক ফয়সাল প্রমুখ।

এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি তাবিথের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক বাদী হয়ে রিটটি দায়ের করেন। রিটে নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।

এর আগে ২৩ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাবিথের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানান সাবেক বিচারপতি মানিক। এ সময় তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বরাবর এ-সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেন।

ওই দিন বিচারপতি মানিক সাংবাদিকদের জানান, সিঙ্গাপুরে এনএফএম এনার্জি (সিঙ্গাপুর) প্রাইভেট কোম্পানি লিমিটেড নামে একটি কোম্পানিতে তাবিথসহ তিনজনের শেয়ার রয়েছে। অন্য দুজন তার সহযোগী। তাবিথসহ তিন জন মিলে এ কোম্পানির সব শেয়ারের মালিক হয়েছেন। এই কোম্পানির মূল্য দেখানো হয়েছে ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি।

বিচারপতি মানিক আরও বলেন, এনএফএম এনার্জি (সিঙ্গাপুর) প্রাইভেট কোম্পানির কথা তাবিথ তার হলফনামায় উল্লেখ করেননি। আইন হচ্ছে, তার ও তার পরিবারের সব সদস্যের সব সম্পদ হলফনামায় দেখাতে হবে। কিন্তু তাবিথ তা দেখাননি।

তবে নির্বাচন কমিশনের ওই আবেদনে সাড়া না পেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মানিক। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

Comments